🎭 হারানো সুতো

(একটি আবেগঘন পারিবারিক নাটক)

লেখা :- প্রতাপ চ্যাটার্জী


চরিত্র

  • শোভা দেবী – (৭০-এর কোঠায়) শান্ত, বিচক্ষণ, ঐতিহ্যপ্রেমী

  • অমিত – (২২-২৩) নাতি, সফটওয়্যার ডেভেলপার, আধুনিক ও প্রযুক্তিপ্রেমী

  • রিতু – (১৯-২০) অমিতের বোন, আধুনিক তবে পরিবারের প্রতি যত্নশীল


দৃশ্য ১ : বসার ঘর

মঞ্চ সাজসজ্জা: একপাশে পুরনো কাঠের আলমারি, অন্য পাশে আধুনিক সোফা ও টেবিল। সোফায় অমিত ল্যাপটপে ব্যস্ত। রিতু কোণে কাপড় গুছাচ্ছে।

আলো: উজ্জ্বল সাদা আলো।

(শোভা দেবী ফুলের ঝুড়ি হাতে মঞ্চে প্রবেশ করেন।)

শোভা দেবী: (অমিতকে দেখে) আজ বসার ঘরেই বসেছিস?
অমিত: হ্যাঁ ঠাকুমা, ক্লায়েন্টের একটা কাজ শেষ করতে হবে।
শোভা দেবী: (কাছাকাছি গিয়ে) একটা কথা বলি?
অমিত: (ল্যাপটপের দিকেই তাকিয়ে) বলো ঠাকুমা, আমি শুনছি।
শোভা দেবী: (হালকা কষ্টে) তুই সারাদিন ওই যন্ত্রটার সাথেই কথা বলিস। আমার সাথে তো কোনো কথা হয় না!
অমিত: (মৃদু হেসে) এই যন্ত্রটাই তো আমার রুজি…
শোভা দেবী: (কথা কেটে দিয়ে) থাক! আজকালকার দিনে সবাই যন্ত্রের মতো হয়ে গেছে।

(শোভা দেবী দুঃখী মুখে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যান। হালকা আলো কমে আসে। রিতু অমিতের কাছে যায়।)

রিতু: দাদা, তুই ঠাকুমাকে এমন করিস কেন?
অমিত: কী করলাম? আমি তো কাজ করছিলাম।
রিতু: (নরম গলায়) কাজ সারাজীবন থাকবে, কিন্তু ঠাকুমা? তিনি একা হয়ে যাচ্ছেন। তিনি শুধু সময় চান।
অমিত: আমার সময় নেই…
রিতু: (গভীরভাবে) সময় নেই, না তুই দিতে চাইছিস না?

আলো ধীরে ধীরে অন্ধকার।


দৃশ্য ২ : শোবার ঘর

মঞ্চ সাজসজ্জা: পুরনো কাঠের সিন্দুক, কিছু পুরনো আসবাব।

আলো: হালকা হলুদ আলো, আবেগঘন পরিবেশ।

(শোভা দেবী সিন্দুকের ডালা খোলার চেষ্টা করছেন। অমিত প্রবেশ করে।)

অমিত: ঠাকুমা, কী করছো?
শোভা দেবী: এই সিন্দুকটা পরিষ্কার করছি। এর ভেতরে আমাদের পরিবারের গল্প লুকানো আছে।

(তিনি সিন্দুক থেকে একটি পুরনো চিঠি, সাদা-কালো ছবি আর অর্ধেক বোনা কাঁথা বের করেন।)

শোভা দেবী: দেখ, এই কাঁথা আমার ঠাকুমা শুরু করেছিলেন, তারপর মা, তারপর আমি।
অমিত: (হাতে নিয়ে দেখে) কিন্তু এটা তো অসমাপ্ত।
শোভা দেবী: হ্যাঁ, কারণ এর সুতো হারিয়ে গেছে। ঠিক আমাদের পরিবারের গল্পের মতো… শেষ হওয়ার আগেই থেমে গেছে।

(অমিত স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। আলো ধীরে অন্ধকার।)


দৃশ্য ৩ : উঠোন (তাঁত যন্ত্র)

মঞ্চ সাজসজ্জা: একপাশে ভাঙা তাঁত, কেটে যাওয়া সুতো।

আলো: হালকা প্রাকৃতিক আলো (দিনের পরিবেশ)।

শোভা দেবী: (তাঁতের দিকে তাকিয়ে) এটাই আমাদের পারিবারিক তাঁত। তোর ঠাকুরদাদা এটা দিয়ে শাড়ি বুনতেন। এখন এর সুতো ছিঁড়ে গেছে, আর কেউ ঠিক করতে পারে না।
অমিত: (হেসে) ইন্টারনেটে ভিডিও দেখে মেরামত করা যাবে, কিংবা নতুন কিনে নাও।
শোভা দেবী: (দুঃখী স্বরে) নতুন যন্ত্র দিয়ে পুরনো সম্পর্ক গড়া যায় না। এই তাঁতের প্রতিটি সুতোয় আমাদের গল্প জড়িয়ে আছে।

(শোভা দেবী ধীরে ধীরে সরে যান। অমিত একা দাঁড়িয়ে তাঁতের দিকে তাকিয়ে থাকে। আলো ধীরে অন্ধকার।)


দৃশ্য ৪ : অমিতের ঘর

মঞ্চ সাজসজ্জা: টেবিলে ল্যাপটপ।

আলো: সাদা আলো, তবে ম্লান।

(অমিত ল্যাপটপ খুলে বসে আছে, মন নেই। রিতু প্রবেশ করে।)

রিতু: কী হয়েছে? মন খারাপ?
অমিত: (দীর্ঘশ্বাস) হ্যাঁ। ঠাকুমা খুব দুঃখ পেয়েছে।
রিতু: তার কাছে ওই তাঁত শুধু যন্ত্র নয়, তার অস্তিত্ব। তুই ল্যাপটপ দিয়ে জগৎ দেখিস, আর তিনি তাঁতের সুতো দিয়ে জগৎ বাঁচান।
অমিত: (চুপচাপ) আমি সবসময় সামনে দেখেছি, পেছনের দিকে তাকাইনি।
রিতু: তাহলে এখন চেষ্টা কর।

(রিতু বেরিয়ে যায়। অমিত গুগলে সার্চ করতে থাকে: “পুরনো তাঁত মেরামত করার উপায়”। হালকা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজে। আলো ধীরে অন্ধকার।)


দৃশ্য ৫ : চিলেকোঠা

মঞ্চ সাজসজ্জা: পুরনো জিনিসপত্র।

আলো: হালকা অন্ধকার, জানালা দিয়ে আলো ঢোকার মতো।

(শোভা দেবী বসে আছেন। অমিত প্রবেশ করে হাতে ছোট বাক্স নিয়ে।)

অমিত: তোমার জন্য একটা উপহার এনেছি।
(তিনি তাঁতের ভাঙা অংশ দেখায়।)
অমিত: এটা আমি সারিয়ে এনেছি, ইন্টারনেটের সাহায্যে।

শোভা দেবী: (অবাক হয়ে, চোখে জল) তুই… তুই সত্যিই এটা করেছিস?
অমিত: হ্যাঁ ঠাকুমা। তুমি সুতো দিয়ে গল্প বুনো, আমি ইন্টারনেটে গল্প খুঁজি। দুটোই আসলে একই জিনিস। আমি সেই হারানো সুতো খুঁজে পেয়েছি।

(শোভা দেবী অমিতকে জড়িয়ে ধরেন। আলো উজ্জ্বল হয়।)


দৃশ্য ৬ : উঠোনে তাঁত মেরামত

মঞ্চ সাজসজ্জা: মেরামত করা তাঁত।

আলো: উজ্জ্বল হলুদ আলো, আনন্দঘন পরিবেশ।

(শোভা দেবী অমিতকে তাঁতের সুতো শেখাচ্ছেন। অমিত笨手笨足 হলেও চেষ্টা করছে। দু’জনেই হাসছে।)

শোভা দেবী: এভাবে নয়, এভাবে ধর।
অমিত: (হাসতে হাসতে) খুব কঠিন!
শোভা দেবী: জীবনের ভালো জিনিসগুলো সহজ হয় না।

(শোভা দেবী একটি সুতো অমিতের হাতে দেন। অমিত মনোযোগ দিয়ে তাঁতে পরায়।)

অমিত: ঠাকুমা, জানো, তাঁত শুধু কাপড় বোনে না, মানুষের সম্পর্কও বোনে।
শোভা দেবী: (মৃদু হাসি) আমি তোকে সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলাম। তোর ইন্টারনেট আর আমার তাঁত – দুটোই গল্পকে জুড়ে দেয়।

(তাঁত চলতে থাকে, হালকা সুর বাজে। আলো ধীরে ধীরে ফেইড আউট।)

(যবনিকা)


চমৎকার 🌸
তাহলে এবার “হারানো সুতো” নাটকের জন্য একটি প্রচারমূলক পোস্টার টেক্সট/ডিজাইন নির্দেশিকা দিয়ে দিচ্ছি, যা মঞ্চায়নের আগে ব্যানার বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহার করা যাবে। 🎭


🎭 হারানো সুতো

(একটি আবেগঘন পারিবারিক নাটক)


🖼️ পোস্টারের ভিজ্যুয়াল ডিজাইন (Horizontal)

  • ব্যাকগ্রাউন্ড:

    • একপাশে আধুনিক ল্যাপটপের নীল আলোর আভা।

    • অন্যপাশে পুরনো তাঁত ও অসমাপ্ত কাঁথার উষ্ণ হলুদ আভা।

    • মাঝখানে সূক্ষ্মভাবে জুড়ে দেওয়া একটি সুতো – যা দুই প্রজন্মকে যুক্ত করছে।

  • চরিত্র ইলাস্ট্রেশন/ছায়া আকারে:

    • শোভা দেবী (হাতে সুতো, শান্ত মুখে হাসি)

    • অমিত (ল্যাপটপ হাতে, তবে দৃষ্টি তাঁতের দিকে)

    • রিতু (ক্যামেরা হাতে, দু’জনকে দেখছে, সেতুবন্ধ রূপে)

  • রঙের টোন: উষ্ণ (হলুদ, কমলা) + আধুনিক শীতল নীল = আবেগ ও প্রযুক্তির মিশ্রণ।


✨ পোস্টারের লেখা (বাংলায়)

উপরে বড় অক্ষরে:

“হারানো সুতো”
(একটি আবেগঘন পারিবারিক নাটক)

লেখা :- প্রতাপ চ্যাটার্জী 

মাঝখানে (ছোট ফন্টে ট্যাগলাইন):

🧵 “যে সুতো ছিঁড়ে যায়, সেই সুতোই আবার সম্পর্ক জোড়া লাগায়…”

নিচে তথ্য:

📍 স্থান: [আপনার মঞ্চ/অডিটোরিয়ামের নাম]
📅 তারিখ: [তারিখ লিখুন]
🕖 সময়: [সময় লিখুন]
🎭 পরিবেশনায়: [দলের নাম]