🎭 মহা-জগাখিচুড়ি ও হিরোইন হারানো রহস্য

লেখা :- প্রতাপ চ্যাটার্জী

ধরন: ফার্স (Comedy of Errors)
সময়কাল: ২ ঘণ্টা
ভাষা: বাংলা


চরিত্র

  • অমল – (৫০) শান্তিপ্রিয় মধ্যবিত্ত মানুষ

  • চঞ্চলা – (৪৫) সিনেমাপ্রেমী, নাটকীয় গৃহিণী

  • টিনটিন – (১৮) ছেলে, প্রযুক্তি-প্রেমী

  • রত্নাদি – (৬০) কৌতূহলী প্রতিবেশিনী

  • ডালিম – (৪০) গ্যাং লিডার, আনাড়ি চোর

  • মোতি ও গদা – (৩০) নির্বোধ সহযোগী

  • সীমা রায় – (৩২) বিখ্যাত অভিনেত্রী

  • সিদ্ধার্থ – (৫০) বিখ্যাত পরিচালক, অদ্ভুত

  • দারোগা মনমোহন – (৫৫) দার্শনিক পুলিশ অফিসার


দৃশ্য ১ – অমল-চঞ্চলার ফ্ল্যাট

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো: উষ্ণ হালকা আলো, লিভিং রুম পরিবেশ।

  • ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা রোমান্টিক সঙ্গীত (বিবাহ বার্ষিকীর আবহ)।

  • অমল আয়নার সামনে টাই বাঁধছেন। চঞ্চলা আয়নায় মেকআপ করছেন।

ডায়লগ:
চঞ্চলা: (উত্তেজিত) অমল, তুমি জানো? আমাদের বিল্ডিং-এ সীমা রায় এসেছেন!
অমল: (বিরক্ত) সীমা রায় হোক বা সুধা রায়, আমার কী?
চঞ্চলা: (গর্বিত) তুমি তো বুঝবে না। শুনেছি তিনি একটা প্রাচীন মুদ্রা লুকিয়ে রেখেছেন। হয়তো আজ আমাদের পার্টিতে আসবেন!
অমল: (নিঃশ্বাস ফেলে) আমি শুধু শান্তি চাই।


দৃশ্য ২ – রাস্তার মোড়

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো কমিয়ে রাস্তার আবহ তৈরি।

  • গাড়ির হর্ন, কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ব্যাকগ্রাউন্ডে।

  • একটি ভাঙা গাড়ি (স্টেজ প্রপস)।

ডায়লগ:
ডালিম: (গম্ভীর) খবর আছে, সীমা রায়ের কাছে লক্ষ টাকার মুদ্রা আছে।
মোতি: (বোকার মতো) কিন্তু কোন ফ্ল্যাটে?
ডালিম: (কাগজ দেখিয়ে) এই ফ্ল্যাটেই। আজ রাতে আমরা চুরি করব।


দৃশ্য ৩ – ফ্ল্যাটে অমল ও চোরদের প্রথম দেখা

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো: উজ্জ্বল, পার্টির প্রস্তুতির পরিবেশ।

  • কলিং বেলের শব্দ।

  • দরজা খুলতেই চোরেরা অদ্ভুত পোশাকে প্রবেশ করে।

ডায়লগ:
অমল: (অবাক) আপনারা কারা?
ডালিম: (গলা পাল্টে) আমরা... ক্যাটারিং সার্ভিস!
চঞ্চলা: (হেসে) আহা! এটা নিশ্চয়ই সীমা রায়ের সারপ্রাইজ!
রত্নাদি: (অবস্থান থেকে চেঁচিয়ে) ওরা দেখতে তো চোরের মতো!
ডালিম: (দ্রুত) না না, আমরা অভিনেতা! (ফিসফিস) অভিনয় করো!


দৃশ্য ৪ – পার্টির বিশৃঙ্খলা

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো: উজ্জ্বল, ভিড়ভাট্টার পরিবেশ।

  • ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা কোলাহল সাউন্ড।

  • চঞ্চলা উৎসাহী, চোরেরা বিভ্রান্ত।

ডায়লগ:
ডালিম: (একটা ছবি তুলে) এটা আসল?
চঞ্চলা: (হাসি) এটা তো আমার অমল—অমূল্য তো বটেই!
রত্নাদি: (গম্ভীর) তাহলে কি সত্যি অভিনয় হচ্ছে?


দৃশ্য ৫ – পরিচালক প্রবেশ

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো হঠাৎ স্পটলাইট।

  • নাটকীয় সঙ্গীত (ফিল্মি ঢঙ)।

  • সিদ্ধার্থ নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রবেশ করেন।

ডায়লগ:
সিদ্ধার্থ: আমি খুঁজছিলাম অ্যাকশন-কমেডি! তোমাদের এই বিশৃঙ্খলাই আমার সিনেমা! ক্যামেরা... অ্যাকশন!
চঞ্চলা: (আনন্দে) তিনি আমাদের পরিচালক!


দৃশ্য ৬ – সীমা রায়ের আগমন

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো: দরজায় স্পটলাইট।

  • কলিং বেল।

  • সীমা রায় ভয়ে ভয়ে প্রবেশ করেন।

ডায়লগ:
সীমা রায়: (কাঁপা গলায়) আমার কাছে এক প্রাচীন মুদ্রা আছে... ওরা আমাকে খুঁজছে।
চঞ্চলা: (উল্লাসে) হিরোইন সত্যিই এলো!
ডালিম: (চোখ চকচক) এটাই তো আমাদের টার্গেট!


দৃশ্য ৭ – দারোগার প্রবেশ

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • পুলিশ হুইসেল সাউন্ড।

  • দরজা খুলে দারোগা প্রবেশ করেন।

ডায়লগ:
দারোগা: আমি মনমোহন। আমি বিড়াল খুঁজতে এসেছি।
সিদ্ধার্থ: (উত্তেজিত) অসাধারণ! তুমি এখন দার্শনিক পুলিশ চরিত্রে!
সীমা রায়: (ভয়ে) দারোগা! আমার মুদ্রাটা ওরা নিতে চাইছে।
ডালিম: (লাফিয়ে) মুদ্রাটা দাও!


দৃশ্য ৮ – কেক ফাইট

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো ঝলমলে।

  • ব্যাকগ্রাউন্ডে সার্কাস-ধাঁচের মজার সঙ্গীত।

  • সবাই কেকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কেক নষ্ট হয়।

ডায়লগ:
টিনটিন: (ভয়ে) মুদ্রাটা কোথায় রাখব!
(সে কেকের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়।)
ডালিম: (চিৎকার) আমার মুদ্রা!
সিদ্ধার্থ: (হাসতে হাসতে) দারুণ! 'গ্রেট কেক ফাইট'—এটাই আমার ছবির ক্লাইম্যাক্স!


দৃশ্য ৯ – সমাপ্তি

মঞ্চ নির্দেশনা:

  • আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে উষ্ণ আলোতে শেষ।

  • সবাই ক্লান্ত হয়ে বসে আছে।

ডায়লগ:
দারোগা: (শান্ত) দেখুন, সব জগাখিচুড়ি মিলিয়ে আমাদের একসাথে করল।
ডালিম: (হতাশ) আমরা আর চুরি করব না।
সীমা রায়: (হেসে) এই মুহূর্তই আসল সম্পদ।
সিদ্ধার্থ: (উল্লাসে) ছবির নাম—'মহা-জগাখিচুড়ি'!
(সবাই হাসতে হাসতে পর্দা নামে।)

(যবনিকা পতন)