🎭 মঞ্চ নাটক: মহা-ভূতুড়ে বাড়ি ও আট গোয়েন্দার গুপ্তধন রহস্য
লেখা :- প্রতাপ চ্যাটার্জী
দৃশ্য ১ – বাড়ির গেট
[মঞ্চে: রাতুল, পিকলু, বুবলি প্রবেশ করে বাম দিক থেকে। তারা গেটের সামনে দাঁড়ায়।]
রাতুল: (সাহসী ভঙ্গিতে) ভয় পাস না, পিকলু! আজ আমরা রহস্য ভেদ করব!
পিকলু: (কাঁপা গলায়) কিন্তু… ভূতের বাড়ি তো!
বুবলি: (ঠাট্টা করে) ভূত থাকলেও তোর মতো কাঁপবে না, পিকলু!
[ডান দিক থেকে হুলো আর তুলো প্রবেশ করে।]
হুলো: (অবজ্ঞা করে) তোরা আবার গোয়েন্দা? রহস্য আমরাই সমাধান করব!
তুলো: (পেছন থেকে প্রতিধ্বনি) হ্যাঁ, আমরাই!
[মধ্যমঞ্চে গুবলু, টুবলু ও মিসেস গোমটা প্রবেশ করেন।]
মিসেস গোমটা: (নাটকীয় ভঙ্গিতে) এই বাড়ি শুধু রহস্য নয়… গুপ্তধনের খনি!
[মঞ্চের কেন্দ্রে একটি পুরনো ডায়েরি রাখা। আলো ফোকাস পড়ে ডায়েরির ওপর।]
সাউন্ড Cue: “ভৌতিক ঘণ্টাধ্বনি”
রাতুল: (ডায়েরি তুলে) “যখন জল ছোটে, সেখানেই প্রথম ক্লু।”
দৃশ্য ২ – ঝর্ণার ধারে
[সব চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে ঝর্ণার পাশে আসে।]
পিকলু: (কাঁপতে কাঁপতে) ভূত… ভূত জল ফেলে দিচ্ছে!
বুবলি: (চোখ বড় করে) ওটা কে ঠেলল?
[ঝোপ থেকে ভুলোমনা চাচা ঢুকে পড়ে।]
চাচা: (গভীরভাবে) হায় হায়! আমি কি আবার কিছু ভেঙে ফেললাম?
[ঝর্ণার পাথরের নিচ থেকে আরেকটি ছড়া বেরিয়ে আসে। ফোকাস লাইট সেই পাথরে।]
দৃশ্য ৩ – গ্রিনহাউস
পিকলু: (ভয়ে) ভূত পাখার ওপর বসেছে!
বুবলি: (সন্দেহভরে) নাহ… কিছু একটা গণ্ডগোল আছে।
[মিস্ত্রি কাকা প্রবেশ করেন বাম দিক থেকে, হাতে টুলবক্স।]
মিস্ত্রি কাকা: এই পাখাটা তো আমি ঠিক করিনি! দেখি দেখি…
[তিনি তার জোড়া দেন, সঙ্গে সঙ্গে পাখা বন্ধ। আলো ফ্লিকার থেমে যায়।]
সাউন্ড Cue: পাখা হঠাৎ বন্ধ হওয়ার শব্দ।
[মিস্ত্রি কাকার টুলবক্স থেকে পরের ছড়াটি ঝরে পড়ে। ফোকাস আলো টুলবক্সে পড়ে।]
দৃশ্য ৪ – চিলেকোঠা
[চিলেকোঠায় ভুতো ও ভুতি বসে হাসছে। তারা সাদা চাদর ও টুপি হাতে নাড়াচ্ছে।]
বুবলি: (আশ্চর্য হয়ে) তোরা ভূত নাকি?
[ভুতো-ভুতি শুধু হাত নেড়ে বোঝায়, কথা বলে না। তারা একটি বাক্সের দিকে ইশারা করে।]
সাউন্ড Cue: ছোট্ট ঘণ্টাধ্বনি, রহস্যময়।
[সব চরিত্র বাক্সের চারপাশে জড়ো হয়।]
দৃশ্য ৫ – গুপ্তধন প্রকাশ
[বাক্স খোলা হয়। ভেতরে একটি কাগজ।]
মিসেস গোমটা: (উচ্চস্বরে পড়েন) “সকালে ঝর্ণার জল, দুপুরে বকুলপাতা, সন্ধ্যায় হাসি—এই হলো হাসির চা।”
সবাই: (একসাথে হেসে ওঠে) এ-ই নাকি গুপ্তধন!
দৃশ্য ৬ – সমাপ্তি
[মঞ্চের সামনে একটি চায়ের আসর তৈরি হয়। মিসেস গোমটা চা ঢালছেন।]
মিসেস গোমটা: (হেসে) এই চা-টা মিষ্টি নয়, তবে মানুষকে হাসায়।
রাতুল: (চা হাতে) বন্ধুত্ব আর হাসিই হলো আসল গুপ্তধন!
(যবনিকা পতন)

0 Comments